উদ্বিগ্নতা দূর করুন-একটু ভাবুন দুঃখিত হবেন না, কেননা যা তকদীরে আছে তা তো সিদ্ধান্ত করা হয়ে গেছে এবং আপনি পছন্দ না করলেও তা ঘটবে। কলমের কালি শুকিয়ে গেছে, কাগজ গুটিয়ে নেয়া হয়েছে এবং সবকিছু দৃঢ়ভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়ে গেছে। তাই আপনার দুঃখ বাস্তবতাকে একটুও পাল্টাতে পারবে না। দুঃখ করবেন না, কারণ আপনার বিষন্নতার দ্বারা আপনি সময়ের গতিরোধ করতে চান, সূর্যকে তার উদয়স্থলে থামিয়ে দিতে চান, ঘড়ির কাঁটাকে স্থির-নিশ্চল করে দিতে চান, পেছনের দিকে হাঁটতে চান এবং নদীকে তার উৎসের দিকে উল্টো বহাতে বা প্রবাহিত করতে চান যা সবই অসম্ভব। (অর্থাৎ আপনার বিষণ্নতার কারণে এগুলোর পরিবর্তন যেমন সম্ভব নয়, তেমনই আপনার ভাগ্যের পরিবর্তনও সম্ভব নয়; সুতরাং বিষন্ন হয়ে কোন লাভ নেই-এ কথাই লেখক এখানে বুঝাতে চাচ্ছেন। -বঙ্গানুবাদক) বিষন্ন হবেন না, কারণ বিষন্নতা ঘূর্ণিঝড়ের মতো ঢেউগুলোকে ভয়ংকরভাবে আছড়ায়। পরিবেশকে নষ্ট করে বা বায়ুমণ্ডলকে পরিবর্তন করে এবং সমৃদ্ধ বাগানের ফুটন্ত ফুলগুলোকে ধ্বংস করে। বিষন্ন হবেন না, কেননা বিষগ্ন ব্যক্তি তার মতো, যে নাকি তলায় ছিদ্রযুক্ত বালতিতে পানি ঢালে। যে লেখক নিজের আঙুল দিয়ে পানিতে লিখতে চায় সে (অর্থাৎ বিষন্ন ব্যক্তি) তার মতো। দুঃখিত হবেন না, কারণ প্রকৃত জীবন কাল মাপা হয় দিনের সংখ্যা দিয়ে-যে দিন আপনি কাটাচ্ছেন। সুতরাং আপনার দিনগুলোকে দুঃখ করে করে শেষ করবেন না। আপনার রাতগুলোকে দুঃখ করে নষ্ট করবেন না এবং আপনার সময়ের অপচয় করবেন না। কারণ, সত্যসত্যই আল্লাহ অপচয়কারীদেরকে ভালোবাসেন না। দুশ্চিন্তা করবেন না, কেননা সত্যিই আপনার প্রভু পাপ মার্জনা করেন ও অনুতাপ-অনুশোচনা গ্রহণ করেন (অর্থাৎ গুনাহ মাফ করেন ও তওবা কবুল করেন)। “বলুন: “হে আমার সেসব বান্দারা যারা (গুনাহ করে) নিজেদের প্রতি অত্যাচার করেছ! তোমরা আল্লাহর রহমত হতে নিরাশ হয়ো না। নিশ্চয় আল্লাহ সকল পাপ ক্ষমা করে দিবেন। নিশ্চয় তিনি অতি ক্ষমাশীল ও পরম করুণাময়।” (৩৯-সূরা আয যুমার: আয়াত-৫৩) যখন আপনি এ আয়াতখানি পড়েন তখন কি আপনার আত্মা শান্তি পায় না? আপনার উদ্বিগ্নতা ও দুশ্চিন্তা কি দূর হয় না? এবং আপনার সমগ্র সত্তার মধ্য দিয়ে কি সুখের প্রবাহ বয়ে যায় না? তাদের আত্মাকে পোষ মানাতে তিনি তাদেরকে ‘হে আমার বান্দারা!' বলে আহবান করেছেন। তিনি বিশেষ করে সীমালঙ্ঘনকারীদেরকে এ কারণে উল্লেখ করেছেন, কারণ তারা অন্যদের তুলনায় অনবরত গুনাহ করতে বেশি অভ্যস্ত। তাহলে অন্যদের জন্য আল্লাহর করুণা কতই না বেশি হবে! এভাবে তিনি তাদেরকে হতাশ হওয়া থেকে এবং ক্ষমা পাওয়ার আশাহত হওয়া থেকে বারণ করেছেন।
A post shared by abusaleh (@abusalehraju) on